Posted on

দাঁতের যত্ন – দন্তক্ষয় থেকে মুখের সংক্রমণ

দাঁতের যত্ন – দন্তক্ষয় থেকে মুখের সংক্রমণ

 

প্রতিদিন দাঁতের যত্ন স্বাভাবিক ভাবে না নিলে দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ হতে পারে। দন্তক্ষয়কে রোগীরা অনেক সময় অবহেলা করে থাকেন। ফলে ‍সুক্ষ  একটি দন্তক্ষয় থেকে দন্তমজ্জা পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে দন্ত মজ্জায় প্রদাহ সৃষ্টি করে থাকে। পর্যায়ক্রমে এ সংক্রমণ দাতের গোড়ায় কোষে বিস্তৃতি লাভ করে থাকে। চিকিৎসা গ্রহণ না করলে তা খুব দ্রুত হাড়ে সংক্রমিত হয়ে থাকে। সংক্রমণের মাত্রা বেশি হয়ে গেলে হাড় ছিদ্র পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।  এরপর সংক্রমণ মুখের কোষ বা কলার একটি স্থানব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করে থাকে যাকে ডাক্তারি ভাষায় স্পেস ইনফেকশন বলা হয়। এ ধরনের স্পেস ইনফেকশনকে লাডউইগস এনজাইনা বলা হয়। ল্যাডউইগস এনজাইনকে সাবম্যান্ডিবুলার বা সাবলিংগুয়াল স্পেস সংক্রমণও বলা হয়। ল্যাডউইগাস এনজাইনা এক ধরনের সেলুলাইটিস। শুধু ডেন্টাল ক্যারিজ নয় বরং যে কোন ডেন্টাল সংক্রমণ থেকে এমনটি হতে পারে। ল্যাডউইগস এনজাইনা হলে রোগীরা গলার পাশে ফুলে গিয়ে শ্বাসনালীর উপর চাপ প্রয়োগের ফলে শ্বাস নেয়ার সময় রোগী সীমাহীন কষ্ট অনুভব করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। মনে রাখতে হবে। লাডউইগস এনজাইনা জীবনের প্রতি হুমকি স্বরূপ হতে পারে। জরুরি অবস্থায় ট্রাকিওসটমীর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। শ্বাসকষ্ট ছাড়া রোগীর জ্বর,  ঘাড়ে ব্যথা, ঘাড় ফুলে যাওয়া, ঘাড় লাল হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি লক্ষণসমূহ দেখা দিতে পারে। পেনিসিলিন জাতীয় এন্টিবায়োটিক স্বাভাবিক ডোজের চেয়ে বেশি পরিমানে দেয়া যেতে পারে বয়স,  উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী। তাই দন্তক্ষয় বা দাতের গোড়ায় কোন সংক্রমণকে কোনভাবেই অবহেলা করা ঠিক নয়। দন্তক্ষয় দেখা দিলে প্রয়েজন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতিতে ফিলিং করিয়ে নিতে হবে। তবে দন্তক্ষয় প্রতিরোধ সবচেয়ে ভালো। তাই প্রতিদিন সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। এছাড়া ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করা ভালো। মাঝে মাঝে প্রয়োজনমত কসমেটিক মাউথওয়াশ ব্যবহারে করা যেতে পারে। মানে রাখতে হবে যে, সব মাউথওয়াশ সবাই ব্যবহার করতে পারে না। কেবল মাত্র ভুল মাউথওয়াশ ব্যবহার করার কারণে আপনার মুখে আলসার দেখা দিতে পারে বা আলসার থাকলে তা সহজে ভালো হবে না। দন্তক্ষয় ছাড়া দাঁতের গোড়ায় বা পাশে কোন সংক্রমণ দেখা দিলে কার্যকর চিকিৎসা দ্রুত গ্রহণ করতে হবে।

 

ডা. মো. ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

 

Posted on

খাদ্যে বিষক্রিয়া

খাদ্যে বিষক্রিয়া
খাদ্যে বিষক্রিয়া
খাদ্যে বিষক্রিয়া
খাদ্যে বিষক্রিয়ার মৃত্যুর খবর মাঝে মধ্যে পত্রিকায় দেখতে পাওয়া যায়। খাদ্যে বিষক্রিয়ার মূলে থাকে অনিষ্টকারী কোন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যারাসাইট। নানা কারণ এগুলো খাবারের মধ্যে থাকতে পারে, সে খাবার পেয়ে এ জীবানুগুলো শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে মানুষকে অসুস্থ করে। অনেক সময় খাদ্যে কম বিষক্রিয়া থাকায় কয়েক দিনের মধ্যে শরীর সুস্থ হয়ে যায়্ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, মারাত্মক হতে পারে। রোগী মারাও যেতে পারে।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণঃ সাধারণভাবে প্রথম লক্ষণ হল বমি বমি ভাব, বমি করা এবং পেট খারাপ হওয়া। ঠিক কখন এ লক্ষণ দেখা দেবে বা কতটা ভয়াবহ আকারে দেখা দেবে সেটি নির্ভর করবে খাদ্যে কি ছিল তার ওপর এবং আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ওপর।

সালমোনেল্লা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার যেটি সাধারণত পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জন্তুর অন্ত্রের (ইনটেসটাইন) মধ্যে থাকে। ভালো করে মাংস রান্না না করলে এ ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয় না। খাবারের মধ্যে থেকে যায়। এছাড়া অন্যভাবে যেমন পশুপাখির নোংরায় হাত দিয়ে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার না করে সে হাতে খাবার ধরলে খাদ্যকে দূষিত করতে পারে। সালমোনেল্লা শরীরে প্রবেশ করলে জ্বর, পেটে খিল ধরা, পেট খারাপ ইত্যাদি দেখা দেয়। এটি যথেষ্ট ভয়াবহ বিষক্রিয়া থেকে সুস্থ হতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগে। হাসপাতালে না গেলে বা সতর্কতা না নিলে এর থেকে মৃত্যু ঘটতে পারে।

সাধারণত ই কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মানুষ ও জন্তু জানোয়ারের মধ্যে বেশি থাকে। এর কয়েকটি প্রজাতি এক ধরনের বিষ বা টক্সিন তৈরি করে যা শরীরের অন্ত্র, মূত্রগ্রন্থি, রক্ত ইত্যাদি আক্রান্ত করে। এ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া দেহে ঢুকলে রক্ত পায়খানা হয়। এটি হলে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। ক্লষ্টিডিয়াম বটুলিনাম ব্যাকটেরিয়া মাটিতে পাওয়া যায়্ এ ব্যাকটেরিয়া মাটিতে পাওয়া যায়। এ ব্যাকটেরিয়া টক্সিনে যে খাদ্য বিষক্রিয়া হয় তাকে বচুলিজম বলা হয়। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বোতলে বা কৌটায় খাবার সংরক্ষণ না করলে এতে লোকজন আক্রান্ত হয়। যেমন ঠিকমতো পাস্তরাইজড না করা মধু থেকে অনেক সময় খুব  ছোট বাচ্চাদের বচুলিজম হতে পারে। বটুলিনজমের লক্ষণ হল- পেশির ক্ষমতা হ্রাস,  মাথা ঘোরা,  মাথা ব্যথা, ডাবল ভিশন ইত্যাদি। এছাড়াও বমি, পেট খারাপ থাকতে পারে। বচুলিজমে স্নায়ু দুর্বল হয়ে মৃত্যু হতে পারে। এটি হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। টক্সোপ্লাজমা গন্ডাই বলে এক ধরনের এককোষী জীবানুর জন্য টক্সপ্লাজমোসিস হয়। সাধারণত ভালোভাবে রান্না না করা মাংস থেকে শরীরে প্রবেশ করে। ‍মুশকিল হল টক্সিপ্লাজমোসিস লক্ষণ বিশেষ কিছু নেই। অনেক সময় ফ্লুর মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মোটামুটিভাবে প্রায় সবাই এতে আক্রান্ত হয়ে শরীরে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু গর্ভবতী নারী ও যাদের শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম,  তাদের ক্ষেত্রে  এটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। যথাসময়ে অ্যান্টিবায়োটিক না দেয়া হলে এ রোগের সংক্রমণের ফলে ভ্রুণ নষ্ট হওয়া, মৃত শিশু প্রসব, শিশু জীবিত অবস্থায় জন্মালেও তার মস্তিষ্ক, চোখ  ইত্যাদি স্বাভাবিক না হওয়ার আশংকা থাকে। এইডস রোগী বা যারা ক্যান্সারের জন্য কোমোথেরাপি নিচ্ছে তাদের পক্ষে এ জীবানু শরীরে প্রবেশ করা মারাত্মক।

যেভাবে খাদ্য দুষিত হতে পারেঃ ব্যাকটেরিয়া জন্তুদের অন্ত্রে থাকে। মাংস কাটার সময় এগুলো তার মধ্যে চলে আসে। চাষের সময় ফলমূলে এগুলো চলে আসতে পারে, যদি সেগুলো ব্যাকটেরিয়া দুষিত পানিতে ধোয়া হয়, গোবর অথবা অন্যান্য জন্তুর বিষ্ঠার সংস্পর্শে আসে। মাংস কাটার সয়ে যে ছুরি বা বটি ব্যবহার হচ্ছে,  একই চাকুতে সবজি কাটলে সবজিতে ব্যাকটেরিয়া  এসে যেতে পারে। নানা ব্যাকটেরিয়া জন্তু জানোয়ারের শরীরে মাটিতে, পানিতে,  ধুলায় রয়েছে।  এগুলোর সংস্পর্শে এসে হাত ব্যাকটেরিয়ানাশক সাবান দিয়ে পরিষ্কার পানিতে না ধুয়ে খাবারে হাত দিলে ব্যাকটেরিয়া খাবারে এসে যেতে পারে।

খাদ্য দুষণ রোধঃ খাবার প্রস্তুত করা এবং সংরক্ষণ করার সময় সর্তকতা অবলম্বন করা। হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধোয়া,  যেখানে কটাকুটি হচ্ছে সে জায়গাটি পরিষ্কার রাখা, ভালো করে উত্তমরূপে ভেজে বা সিদ্ধ করে রান্না করা যাতে ব্যাকটেরিয়াগুলো ধ্বংস হয়। সংরক্ষণের জন্য খাবার রেফ্রিজারের রাখা এবং খাবার আগে সেটি আবার খুব ভালোভাবে গরম করা। ডিম, মাংস, মাছ,  দুধ ইত্যাদি যেগুলো সহজে নষ্ট হয়। সেগুলোর ব্যাপারে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা।

খাদ্য বিষক্রিয়ার চিকিৎসাঃ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসা হল কষ্টকে লাঘব করা,  ক্ষেত্রবিশেষে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা। বমি বা পেট খারাপ হলে প্রচুর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটস খাওয়া যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়। সে জন্য অনেক সময়ে হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন। পায়খানা করানোর ওষুধ না খাওয়া বাঞ্চনীয় কারণ এতে ফল উল্টো হতে পারে। বচুলিজম বা ই কোলাইয়ের ক্ষেত্রে আশু হাসপাতালে যাওয়া প্রয়োজন।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

Posted on

ক্যান্সার রুখতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস

ক্যান্সার রুখতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস

অ্যান্টি অক্সিডেন্টস শব্দটার সঙ্গে অনেকেই পরিচিত। বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে এবং পরিবেশের কারনে আমাদের শরীরে ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরি হয়। ফ্রি র‌্যাডিক্যালস ক্যান্সারসহ নানা রকম শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে। অ্যান্টি অক্সিডেন্টস হল এমনই এক রাসায়নিক যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালসকে প্রশমিত করে। ফ্রি র‌্যাডিক্যালস হল অতি মাত্রায় সক্রিয় মুক্ত পরামাণু তাই এরা অনবরত স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করে। অন্য পদার্থের সঙ্গে মিলে স্থিরতা লাভ করতে চায়। এরা অনবরত সেলমেমব্রেন বা কোষ প্রাচীর,  ডিএনএকে আক্রমণ করে। ফলে আরও ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরি হয় যতক্ষণ না কোন অ্যান্টি অক্সিডেন্টস এদের নিরস্ত্র করে। অ্যান্টি অক্সিডেন্টসেই শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালস নামক সন্ত্রাসবাদী হানা থেকে রক্ষা করে। আমাদের শরীরের মধ্যে কিছু কিছু এনজাইম রয়েছে। যেমন- সুপার অক্সাইড ডিসমিউটেজ, গ্লাটাথিওন পারঅক্সাইড। এরা এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্টস। কিন্তু এ যুগে পরিবর্তিত  লাইফস্টাইলে  প্রবল মানসিক চাপ, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, দূষিত পরিবেশ এবং উল্টা পাল্টা খাওয়া দাওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরি হয়। এই ফ্রি র‌্যাডিক্যালস ক্যান্সার,  হার্টের অসুখ, উচ্চ রক্তচাপ, নার্ভের অসুখ সর্বোপরি বার্ধক্যকে এগিয়ে আনে। কখনও কখনও বিরূপ পারিপার্শ্বিকতার কারণে দেহের অভ্যান্তরীণ ভারসাম্যের ব্যাঘাত ঘটে ফলে ফ্রি র‌্যাডিক্যালস খুব সহজেই কোষ ও ডিএনএকে আক্রান্ত করে এদের গঠেন ও কার্যকারিতা পাল্টে দেয়। যার ফলে অস্বাভাবিক কোষ কলা তৈরি হয়। এদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ক্রমান্বয়ে এটি টিউমার বা ক্যান্সারের রূপ ধারণ করে।

ক্যান্সার রুখতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস
ক্যান্সার রুখতে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস

ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে কারসিনোজেন নামক এক ধরনের উপাদান যা খাদ্যদ্রব্য বা বাতাস থেকে আমাদের দেহে প্রবেশ করে। কখনও দেহের অভ্যন্তরেও কারসিনোজোন তৈরি হয়। দেহে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস পর্যাপ্ত থাকলে অধিকাংশ কারসিনোজেন ক্ষতি করার আগেই প্রশমিত হয়ে যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীজ খাবারের চেয়ে উদ্ভিজ খাবারে অ্যান্টি অক্সিডেন্টসের পরিমাণ বেশি পাওয়া যায়। আরও জানা গেছে, উদ্ভিজ চর্বির চেয়ে প্রাণিজ চর্বিতে ক্যান্সারের ঝুকি বেশি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ক্যান্সারের সাথে চর্বিযুক্ত খাবারে যোগসুত্র খুজে পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যে ক্যান্সার গবেষক ডা. নেসলি ওয়াকার জানান, খাবার এবং ক্যান্সারের মধ্যে যথেষ্ট সম্পৃক্ততা রয়েছে। ক্যান্সারের ঝুকি এড়াতে খাবারে গ্রহণে যে সর্তকতার প্রয়োজন তার গবেষণায় সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে তুল ধরা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্যান্সার এখন মহামারী আকার ধারণ করছে। আজকাল উন্নত দেশগুলোতে ফাস্টফুডের বিরুদ্ধে সেচ্চার হয়ে ক্রমশ ভেজিটেরিয়ানিজমের দিকে ঝুকে পড়ছে অথচ আমাদের দেশের সচ্ছল তরুল তরুণীরা উচ্চ চর্বিযুক্ত ফাস্টফুড নির্দ্ধিধায় খাচ্ছে। আমাদের জানা প্রয়োজন কোন কোন খাবার ক্যান্সার হতে বাধা দেয়। দীর্ঘজীবী হওয়ার সাধ কার না আছে ? কে না চায় রোগ ব্যাধির সঙ্গে যুদ্ধ করে সুস্থভাবে বাঁচতে ? আর মরণব্যাধি ক্যান্সার বা অন্যান্য রোগব্যাধির মোকাবিলার এগিয়ে আসে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। অনেকে ভাবতে পারেন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হয়তো অনেক নামিদামী খাবার। এই ধারণটা ঠিক নয়। বিধাতা আমাদের দেহের সুস্থতার জন্য অনেক সস্তা, সহজলব্য খাবার সৃষ্টি করেছেন যা থেকে আমরা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পেতে পারি। আমাদের দৈনন্দিন খাবারের ম্যেধই আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস। আলফা ক্যারোটিন, বিটা ক্যারোটিন, লাইকোপিন, ক্রিপটোজ্যানথিন, ক্যানজ্যানথিন, ফাইটোইস্ট্রোজেন, বায়োফ্ল্যাভোনয়েডস, ট্যানিন, লিউটেন, পলিফিনলিক  এসিড, ভিটামিনি এ  ই সি, আয়রণ, কপার, জিংক, সিলোনিয়াম ইত্যাদি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

শাক সবজি এবং ফলমুলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্টস যা আমরা প্রতিনিয়তই খেতে পারি। টাটকা শাক সবজিতে যেমন- পালং শাক, পুইশাক, লাউ কুমড়া শাক, লালশাক, ধণে পাতা, পুদিনা পাতা, সজনে শাক ডাটা, ঢেড়স, গাজর মটরশুটি, বরবটি ইত্যাদিতে আছে ভিটামিন সি, বিটাক্যারোটিন- ক্যান্সার প্রতিরোধে এই অ্যান্টি অক্সিডেন্টসের ভুমিকা অপরিসীম। টক জাতীয় ফলের রস- আমলকি,  আনারস, লেবু, কমলালেবু, কাচা আম, টমেটো, বেদনা, বাতাবী লেবু,  আমড়া পেয়ারা ইত্যাদিতে আছে ভিটামিন সি জাতীয় ক্যান্সাররোধী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। লাইকোপিন নামক উচ্চ মানের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে নটেশাক, তরমুজ এবং টমোটোতে। পাকা পেপে, পাকা আম, পাকা কুমড়া, কালো জামে আছে ক্রিপটোজ্যানথিন। লিউটেন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় কালো জামে। ফাইটোইস্টোজেনের ভালো উৎসা হলে সয়াবিন। এছাড়াও রয়েছে বরবটি, শিম, মটরশুটি, কমলালেবু,  আম, জাম, কালো, আঙ্গুর, বেদানা, গাজর, বীট, লেটুস, ঢেড়স, ক্যাপসিকাম ইত্যাদিতে বায়োফ্ল্যাভোনয়েডস, যুক্ত খাবার হলে চা, আঙ্গুর, বাধাকপি, ফুলকপি, হলুদ, সর্ষে ইত্যাদি। এ ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ডিম্বশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে বেশি কার্যকরী। ভিটামিন ই রয়েছে সয়াবিন, ছোলা, বাদাম, সূর্যমুখীর তেল ও বীজ, আটা, হরেক রকম ডাল ইত্যাদিতে। নানা রকম শস্য অর্থ্যাৎ চাল, গম, ডাল, সয়াবিন, শুকনো ফলে মানে কিসমিস, খেজুর, বাদাম ইত্যাদিতে রয়েছে কপার। সিলোনিয়াস পাওয়া যায় দুধ, মাংস আর সামুদ্রিক মাছে। বালাই বাহুল্য এসবই অ্যান্টি অক্সিডেন্টস যা আমাদের শরীরকে ক্যান্সার ও নানা রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলার শক্তি জোগায়। যেসব খাবারে অ্যান্টি অক্সিডেন্টস আছে তাদের সিংহভাগই নিরামিষ। গবেষণায় দেখা গেছে, নিরামিষকারীদের সব ক্যান্সারই কম হয়। যারা বেশি পরিমাণে চর্বিযুক্ত ও আমিষসমৃদ্ধ খাবার খান তাদের ক্যান্সারের আংশকা ৫০% বেশি। তাই আমাদের উচিত নিত্য দিনের খাদ্য তালিকায় টাটকা শাকসবজি, ফলমুল বেশি থাকা আর চর্বি জাতীয় খাদ্য যথা সম্ভব এড়িয়ে চলা যা ক্যান্সার প্রতিরোধ যথেষ্ট সহায়ক।

 

ডা. জ্যোৎস্না মাহবুব খান

হাসান ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ।

Posted on

স্মৃতিকে শাণিত করুন

স্মৃতিকে শাণিত করুন

 

কোন কিছু দেখে, শুণে বা ভাবা তথ্যকে মগজে জমা করে রেখে প্রয়োজনে সেই তথ্যকে বের করে এনে কাজে লাগানোই হল স্মৃতিশক্তি। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখে মস্তিষ্কে থাকা কয়েক হাজার কোটি স্নায়ুকোষে বা নিউরন যা এক দুর্ধর্ষ নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্ক অত্যাধুনিক যে কোন নেটওয়ার্কের চাইতে কয়েক লক্ষ গুণ অধিক কার্যকরী। স্মৃতি বড় রহস্যময়। এটা বাড়ানো যায় স্মৃতিশক্তির চর্চা করে। এই মানব জমিন অমূল্য। মগজকে অলস বসিয়ে না রেখে যত বেশি এর চর্চা বাড়ানো যায় তত বড় হবে আপনার মেমোরি নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্ক ত বাড়বে তত বাড়বে স্মৃতির ধার। ছাত্র জীবনে নানা বিষয়ে চর্চা, পড়াশুনো, আলোচনা যে কোন মানুষের মগজের নিউরানাল রিজার্ভ বাড়ায়। রিজার্ভ যত বাড়ে স্মৃতির তীক্ষতা তত বাড়ে। কর্মজীবনে নানা বিষয়ে বেশি পড়াশুনা করেন। আলোচনা করেন হাজারটা বিষয় নিয়ে যেখানে মগজ কাজে লাগে বেশি। শুধু পাঠ্য বই নয়, কম বয়স থেকেই পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি নানা বিষয়ের বই,  ম্যাগাজিন পড়ার অভ্যাস সে অভ্যাস যেন সঠিক পদ্ধতিতে, সঠিক পরিবেশে হয়। পড়ার টেবিলে যথেষ্ট আলো ও নীরবতা থাকা দরকার। পড়া বিষয়কে স্মৃতিতে আত্মস্থ করে নিতে হলে জোরে, শুদ্ধ উচ্চারণে পড়তে হবে এবং বার বার পড়তে হবে তাহলে মনে থাকবে বেশি। সে জন্য বাবা মায়ের উচিত অল্প বয়স থেকে বাচ্চাদের রিডিং হ্যাবিট তৈরি করে দেয়া। একবার রিডিং হ্যাবিট তৈরি হয়ে

স্মৃতিকে শাণিত করুন
স্মৃতিকে শাণিত করুন

গেলে নানা বিষয়ে পড়াশোনার আগ্রহ বাড়বে। শুধু পড়া নয়, পড়া বিষয় আলোচনা করুন, আড্ডা দিন, তর্ক করুন রসিকজনের সাথে। নতুন নতুন বিষয় জানুন, জমা করে নিন মগজে, অন্যদের সাথে আদান প্রদান করুন বিভিন্ন তথ্য। ভাল গান শুনুন, ভাল বই পড়ে না, ভাল ছবি দেখুন ডায়েরি লিখুন, পুরনো ডায়েরি পড় ন, যা করবেন যথেষ্ট মন লাগিয়ে। পড়ার পাশাপাশি বার বার লেখা বিশেষভাবে স্মৃতি সহায়ক। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, বয়স অনুযায়ী শরীরচর্চা করতে হবে। বেশি বয়সেও যেন  স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা যায় তার জন্য দরকার স্মৃতির চর্চা করা, স্মৃতি কাজে লাগে এমন কাজকর্ম বেশি বেশি করা। পুরানো দিনের গল্প করা, বেড়ানোর কাহিনী বলা,  পড়া বিষয়ে বলতে, বোঝাতে স্মৃতি কাজে লাগে খুব বেশি। টেনশন এড়িয়ে চলা,  রক্তচাপ এবং দৈহিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। মনটাকে আনন্দে রাখুন, প্রাণখুলে হাসুন, কাজে লাগান মনের অসীম কল্পনাশক্তিক, কাজে লাগান সৃজনশীলতাকে। নানা জ্ঞান বিজ্ঞান যত বেশি আয়ত্ব করবে মন, তত  একটা একটা করে ফুটতে থাকেব মনের নতুন চোখ। মনের চোখ যত বাড়ে, মেধা, স্মৃতি,  বিচার বিশ্লেষণের ক্ষমতাও তত বাড়ে। কম বয়স থেকে মগজকে যত বেশি কাজে লাগানো যাবে,  বেশি বয়সে স্মৃতি লোপের আশঙ্কা তত কম। আর দেরি নয় আজইমন দিয়ে মস্তিষ্ক চর্চা বাড়াতে নেমে যান।

 

ডা. জ্যোৎস্না মাহবুব খান

মুক্তগাছা, ময়মনসিংহ

 

Posted on

মাংস কম খান

মাংস কম খান

 

এক প্রান্তের মানুষ যখন জলবায়ুর পরিবর্তনের  কবলে প্রাণ হারাচ্ছে, ঠিক তখন অপর প্রান্তের মানুষ বিলাসিতার ছলে বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছে টন টন কার্বন ডাই অক্সাইড। তাই বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার পর প্রকাশ করলেন এক চমৎকার দাওয়াই। বিজ্ঞানীদের এই দাওয়াই মেনে চললে একদিকে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে,  জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো তথা পরিবেশ বিপযর্যের মাত্রা হ্রাসেও সহায়ক হবে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করলেন ৯০ পৃষ্টার এক গবেষণালব্ধ পুস্তক। নাম এ মিট ইটার্স গাইড টু ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ’। এতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে খাবার তালিকায় ছোট্র পরিবর্তন আনলেই তা পরিবেশ রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু গ্যাস এবং তেল জাতীয় জ্বালানির দহনই এককভাবে দায়ী নয়। বরং এর পেছনে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে প্রাণীর ঢেকুর মিথেন গ্যাসের নির্গমন থেকে নানা প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের জীবনচক্রও। যেগুলো আবার বিশ্বমানের খাবার টেবিলেও নিয়মিত হাজির থাকে।

মাংস কম খান
মাংস কম খান

ওয়াশিংটনে কর্মরত এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ ‘ইডব্লিউজি’র উর্দ্ধতন বিশ্লেষক ক্যারি হ্যামারশ্ল্যাগ বললেন,  আমাদের গবেষণায় আমরা গ্রিণ হাউস নির্গমনের বিবেচনায় প্রতিটি খাবারের জন্ম থেকে বিনাশ অবধি কার্বন চক্র বিশ্লেষণ করেছি।  এমনকি সেগুলো খামারে থাকা অবস্থায় এবং তারপরের ধাপগুলোও বিবেচনা করা হয়েছে। ইউব্লিউজি যৌথভাবে ওরেগনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রিনমেট্রিক্স কর্পোরেশন পোর্টল্যান্ডের সাথে এই গবেষণার কাজ করেছে। এর আওতায় প্রাণীকুলের জন্য ব্যবহৃত খাবার,  সেগুলোকে প্রয়োগ করা পোকানিধন বিষ, সার, পশুপালন, বিভিন্ন খাবার প্রক্রিয়াজাতকারণ,  পরিবহন এবং রান্নার বিভিন্ন ধাপগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি খাবার পর অবশিষ্টাংশ থেকে নির্গত গ্যাস ও সেগুলোর ব্যবস্থাপনার ধাপগুলোও যথাযথভাবে হিসাবে আনা হয়েছে।  শুধূ তাই নয়,  খামারে চাষ করা মাছ শস্য দুগ্ধজাত খাবার এবং শাক সবজির উৎপাদন চক্রকেও আনা হয়েছে   এই গবেষণার মধ্যে। বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে সপ্তাহে একবার একফালি মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলছেন। কারণ, মাংসই হচ্ছে মানুষের খাবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী। আবার,  এগুলোর মধ্যে ভেড়ার মাংস থেকে নির্গত হয় সবচেয়ে বেশি কার্বন। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, এক কিলো ভেড়ার মাংস খেলে কার্বন নির্গমন হয় প্রায় ৪০ কেজি। বিষয়টিকে আরও একটু সহজ করে বলতে গেলে, ১১০ গ্রাম ওজনের একফালি ভেড়ার মাংস খাওয়া আর একটি মাঝারি গাড়ি আরও একটু সহজ করে বলতে গেলে,  ১১০ গ্রাম ওজনের  একফালি ভেড়ার মাংস খাওয়া আর একটি মাঝারি গাড়ি ২১ কিলোমিটার চালানোর ফলে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ সমান। তাই হ্যামারশ্ল্যাগের পরামর্শ, চারজন সদস্যের  একটি পরিবার যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকে তাহলে প্রায় তিন মাস গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার সমান কার্বন নির্গমন ঠেকাতে পারে। বৈজ্ঞানিক হিসাবে,  বিশ্বের সব উন্নত দেশের বাসিন্দাদের তুলনায় মার্কিনদের সবচেয়ে বেশি মাংস খায়। আর এই পরিমাণ হলো বছরে মাথাপিছু ১১০ কেজি। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি হৃদরোগ,  ডায়াবেটিস এবং স্থুলতা থেকে বাচতে মানুষকে মাংস খাওয়ার হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট

Posted on

মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস

মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস

লাইকেন প্ল্যানাস এক ধরনের চর্মরোগ যা সাধারণত ওরাল মিউকোসাতে দেখা যায়। মোট জনসংখ্যার শতকরা ২ ভাগ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সাধরণত যাদের বয়স ৪০ বৎসরের চেয়ে বেশি তাদের দেখা যায়। এর কারণ এখনও জানা যায়নি।  এ রোগ সাধারণত ক্যান্সারের দিকে রূপান্ততি হয় না। আনুমানিক শতকরা ১ ভাগ ক্ষেত্রে ১০ বছর পর ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হতে পারে। চামড়ায় হলে শতকরা ৭০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে মুখের সমস্যা দেখা যায় আর অন্যদিকে ওরাল লাইকেন প্ল্যানাসের রোগীদের মাত্র শতকরা ১০ ভাগের ক্ষেত্রে চর্মে সমস্যা দেখা যায়।

মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস
মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস

কোথায় হয়ঃ মুখে লাইকেন প্ল্যানাসের আক্রান্ত স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল বাক্কাল মিউকোসার পিছনের অংশ। কিন্তু এছাড়া জিহ্বা, মাড়ি এবং অন্যান্য স্থানও আক্রান্ত হতে পারে। আর অন্য দিকে চর্মে লাইকেন প্ল্যানাস সাধারণত দুই হাতের কিজি এবং পায়ের হাটুর নিচের সম্মুখ ভাগের হাড় টিবিয়ার শিনের উপরি ভাগের ত্বকে লাইকেন প্ল্যানাস চর্মরোগ দেখা যায়।

আক্রান্ত স্থানঃ এ রোগ সাধারণত শরীরের উভয় দিকে হয়ে থাকে। আক্রান্ত স্থানে বেগুনি বা কালচে রংয়ের দাগ দেকা যায়। আর মুখের লাইকেন প্ল্যানাসের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থান ক্রিসক্রস ধরনের হয়ে থাকে। আবার বাক্কাল মিউকোসাতে সাদা সাদা দাগ দেখা যেতে পারে।

রোগের কারণঃ লাইকেন প্ল্যানাস রোগে ইমমিউনো প্যাথোজেনেসিসের প্রমাণ রয়েছে যদিও দায়ী এন্টিজেন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইমমিউনো প্যাথোজেনেসিস বলতে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ব্যবস্থা ব্যাহত হয় বুঝায়। লাইকেন প্ল্যানাস অথবা লাইকেন প্ল্যানাসের মতো দেখতে সংক্রমণের যোগসূত্র থাকতে পারে যেসব ক্ষেত্রে সেগুলো হলোঃ

১) অ্যামালগাম ডেন্টাল ফিলিং

২) ওষুধজনিত কারণ বিশেষ করে এনএসএআইডি গোত্রভুক্ত ব্যথানাশক ওষুধ।

৩) স্বর্ণ নির্মিত কোন ডেন্টাল এপ্লায়েন্স।

৪) ম্যালেরিয়া রোধকারী ওষুধ।

৫) মিথাইল ডোপাজাতীয় ওষুধ।

৬) অটোইমমিউন ডিসঅর্ডার।

৭) ক্যান্সারের ক্ষেত্রে।

৮) এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত হলে।

যেসব রোগে লাইকেন প্ল্যানাসের যোগসূত্র কম সেগুলো হলঃ

১) দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের রোগ।

২) হেপাটাইটিস সি ভাইস সংক্রমণ।

অনুভূতি এবং রোগের ধর্মঃ

লাইকেন প্ল্যানাস রোগে আক্রান্ত স্থানে খুব বেশি চুলকায়। তবে আক্রান্ত স্থান শুধু দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া  ঠিক নয়। লাইকেন প্ল্যানাস রোগ নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই বায়োপসি তকরা প্রয়োজন। তবে অবস্থা বিশেষে রোগের লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। লাইকেন প্ল্যানাস সাধারণত মাসের পর মাস এমনকি দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আবার একবার ভাল হলে পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লাইকেন প্ল্যানাসের চিকিৎসাঃ

আক্রান্ত স্থানের উপরি ভাগে স্থানীয়ভাবে কটিকোস্টেরোয়েড মলম যেমন হাইড্রোর্কটিসন হেমিসাকসিনেট, বেটামেথাসন প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে অতিমাত্রায় সংক্রমণের ক্ষেত্রে এন্টিফাংগাল ওষুধ সেবন করতে হবে। আর মুখের লাইকেন প্লানাসের ক্ষেত্রে কেনালগ ইন ওরোবেস নামক ওষুধটি স্থানীয়ভাবে প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া যায়। চুলকানির জন্য এন্টি হিস্টাসিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। এক্ষেত্রে লোরাটিডিন বা ডেসলোরাটিডিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে লাইকেন প্ল্যানাস রোগটি যদি বেশি অগ্রসরমান অবস্থায় থাকে তাহলে ২০ মি.গ্রা প্রেডনিসোলন প্রতিদিন গ্রহণ করে ৪ থেকে ৬ মাসে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাছাড়া সাথে ট্যাবলেট মাইসোফুলডিন চার ভাগের এক ভাগ প্রতিদিন সেবন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। কত দিন কোন ওষুধ চলবে তা আপনার চিকিৎসকিই নির্ধারণ করবেন। তবে যাদের হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন

ওরাল  এন্ড  ডেন্টাল সার্জন মাহী ডেন্টাল কেয়ার

বউবাজার, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

Posted on

ব্রয়লার মুরগি তে কোলেস্টেরল কম

ব্রয়লার মুরগি তে কোলেস্টেরল কম

পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই যেখানে ব্রয়লার মুরগি এর জনপ্রিয়তা নেই। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান শ্রীলংকা ইত্যাদি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ব্রয়লার এখন বেকার দূরীকরনের অন্যতম উপায়। শিক্ষিত লোকরো যুবকরা তাই যত্রতত্র খুছেন ফার্ম, তা স্বত্তেও চাহিদা অনুযায়ী জোগান নেই কোনো প্রান্তেই। গবেষণার জানা যায়, একজন ব্যাক্তির শরীরে প্রোটিন চাহিদা পূরণের জন্য বছরে প্রায় ১১ কেজি ব্রয়লার বা অন্য কোনও পোষ্য পশু পাখির গোশত খাওয়া জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো গরীব দেশে তা কি সম্ভব ? এ দেশে মানুষ বছরে গড়ে খায় ৭৫০-৮০০ গ্রাম পশু পাশির গোশত। মজার ব্যাপার হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ব্রিটেন, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেনসহ উন্নত দেশগুলোতে বছরে গড়ে এক ব্যাক্তি খান ৩৮ কেজি পশু পাখির গোশত।

এখন জানা জরুরী ব্রয়লার কী? ব্রয়লার এমন এক সংকর প্রজাতির মুরগী যার বৃদ্ধি প্রায় অবিশ্বাস্য। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণে থাকলে একটি ব্রয়লার জন্ম থেকে মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যেই ২ কেজি ওজনের হতে পারে। বিশ্বজুড়েই ছাগল ভেড়া উট গরু ইত্যাদি পশুর সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান; ফলে এগুলোর গোশতের নামও গগনচুম্বি। এ কারণেই প্রাণিজ প্র্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে ব্রয়লার ইতোমধ্যেই স্বীকৃত। কেননা এর হাড়বৃদ্ধি বেশি, দামও কম। বাংলাদেশে ব্রয়লার পালন শিল্প বছরে ২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসাধারণের মধ্যে একটা মত আছে, ব্রয়লারের পুষ্টিগুন কম; তা কোমল নিম্নগুণ বিশিষ্ট গোশত। এই মত অবৈধ ভুল। সংশ্লিষ্ট তালিকার দিকে তাকালেই বেঝা যাবে ব্রয়লারের গোশত অন্য কোনও গোশতের চেয়ে কম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন নয়। এবার ব্রয়লারের গুণগুলো দেখা যাকঃ অন্য যে কোনও গোশতের চেয়ে ব্রয়লার গোশতে চর্বি কম। ফলে একে অনায়াসেই কম ক্যালোরিসম্পন্ন খাদ্য তালিকার অর্ন্তভূক্ত করা যায়। অবশ্য একটা কথা উল্লেখযো্গ্য যে, ব্রয়লারের বয়স বৃদ্ধি হলে শরীরে চর্বি জমা হতে পারে। তবে ব্রয়লার সে বয়সে পৌছানোর সুযোগই পায়  না।

ব্রয়লার গোশত মাঝেমধ্যে রান্না করা ভালো। ব্রয়লার গোশতে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও নিয়াসিন অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। খনিজ পদার্থ, যেমন পটাশিয়াম, সোডিয়াম আয়রণ, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার , ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম ও আয়োডিন পাওয়া যায় ব্রয়লারে। মাত্র ৬ সপ্তাহ বয়সী ব্রয়লারেই এইসব খনিজ পদার্থ পূর্ণমাত্রায় থাকে; যা স্থানীয় মুরগী বা অন্য গোশতে পাওয়া যায় না। ব্রয়লারে চর্বিতে যে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে তা অ্যানস্যুাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে এই চর্বি হৃৎপিন্ড বা উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগ তৈরি করে না বা বাড়ায় না। অন্য গোশতে বিশেষত তৃণভোজি প্রাণির গোশতে চর্বিতে খারাপ অ্যাসিড বেশি থাকে, তাই সেগুলো মানব শরীরের পক্ষে হানিকারক।

  • ব্রয়লারের মাংসের আশ খুব নরম ও চামড়া পাতলা থাকায় তা সহজেই হজম হয়। ফল বেশি বেশি পুষ্টিকর উপাদান ব্রয়লারেই পাওয়া সম্ভব। কম বয়সী, বৃদ্ধ সকলেই ব্রয়লার খেয়ে হজম করতে পারে। দেশী মুরগীর গোশতের আঁশ শক্ত বলে তা হজম করাও অনেকের জন্য কঠিন।
  • ব্রয়লারের গোশতেই কোলেস্টেরল সবচেয়ে কম, তাই হৃদরোগীরাও এই গোশত খেতে পারে।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট

Posted on

ফুসফুসের বাইরে যক্ষা

ফুসফুসের বাইরে যক্ষা

যক্ষা কোন মামুলি রোগ নয়। যক্ষা বাংলাদেশের ২য় ঘাতক ব্যাধি এবং অন্যতম সামাজিক সমস্যা। যে কোন বয়সেই যেমন মানুষের এই রোগ হতে পারে তেমনি শরীরের যে কোন অঙ্গেই হতে পারে এই রোগ। বলা হয়ে থাকে চুল, নখ এবং দাঁত ছাড়া শরীরের এমন  কোন জায়গা নেই যেখানে যক্ষা হতে পারে না। এই রোগ দুই ধরনের। ফুসফুসের যক্ষা ও ফুসফুসে বহির্ভুত যক্ষা। তবে এই রোগীদের শতকরা ৮০ ভাগই ফুসফুসের যক্ষায় ভোগে। বাকি শতকরা ২০ ভাগ ফুসফুস বর্হির্ভুত যক্ষা রোগী। বাংলাদেশে প্রতিবছর যক্ষায় যত রোগীর মৃত্যু হয় তার সবই প্রায় ফুসফুসের যক্ষা রোগী। ফুসফুস বর্হিভূত যক্ষায় একেবারেই কোন রোগীর মৃত্যু হয় না তা নয়, তবে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা এতই কম যে শতকরা হিসাবে সেটা মোটেই ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। ফুসফুস ছাড়া শরীরের যেসব অঙ্গে এই রোগ হতে পারে সেগুলো হলো, চামড়া,  হাড়, মস্তিষ্ক, গ্লান্ড/গ্রন্থি, কান নাক,  হাড়ের জয়েন্ট, অন্ত্র, হৃৎপিন্ডের আবরণী, ফুসফুসের আবরণী চোখ, কিডনি, মুত্রনালী ও প্রজনন নালী, জরায়ু ইত্যাদি।

ফুসফসের বাইরে যক্ষা
ফুসফসের বাইরে যক্ষা

সব যক্ষায় সাধারণত দুই ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। একটি স্থানীয় লক্ষণ অর্থ্যাৎ সযে অঙ্গে যক্ষা হয় সেখানকার স্থাণীয় লক্ষণ এবং অপরটি সাধারণত লক্ষণ। রোগের প্রতিক্রিয়ার ফল এই সাধারণ লক্ষণ তৈরি হয় এবং এগুলো সব ধরনের যক্ষায়ই প্রকাশ পায়। যেমন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিকালে ঘুষঘুষে জ্বর তবে কদাচিৎ এই জ্বর সকালেও হতে পারে। ক্ষুধা মন্দা, ওজন হ্রাস, অকারণে অবসাদ বা ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় করা,  অকারনে ভালো না লাগা, নিদ্রাহীনতা, অকারণে শরীরে ঘাম হওয়া ইত্যাদি। এসব লক্ষণের সাথে স্থানীয় লক্ষণ মিলিয়ে নির্ণয় করা হয় ফুসফুসে বর্হিভুত যক্ষা।

সমীক্ষা অনুযায়ী   এক্সট্রা পালমেনারি নিম্নে উল্লিখিত ক্রমানুসারে সাজানো যায়ঃ

১) লিম্প গ্লান্ড/ গ্রন্থি, ২) জেনিটো ইউরিনারি, ৩) ফুসফুসের আবরণী, ৪) মিলিয়ারী, ৫) হাড় ও হাড়ের জয়েন্ট, ৬) কোল্ড এবসেস, ৭) পাকস্থলী ও অন্ত্র, ৮) মস্তিষ্কের আবরণের প্রদাহ (মেনিনজাইটিস), ৯)  হৃদযন্ত্রের আবরণী ও ১০) চামড়া। সব থেকে বেশি এক্সট্রা পালমোনারি টিবি হয় লিম্প গ্লান্ড/ গ্রস্থিতে (শতকরা সাড়ে ৩৭ ভাগ) এবং সব থেকে কম এক্সট্রা পালমোনারি টিবি হয় হৃদযন্ত্রের আবরণী ও চামড়ার (শতকরা শূণ্য দশমিক ৮ ভাগ)। এক্সট্রা পালমোনারি টিবির মধ্যে সব থেকে ভয়াবহ হলো ম্যানিন জিয়াল টিবি (মস্তিষ্কের আবরণের প্রদাহ) ও মিলিয়ন টিবি।

লিম্প গ্লান্ড/ গ্রন্থির টিবিঃ প্রথমত আক্রান্ত গ্লান্ডগুলো ফুলে যায়, লাল হয়, হাত দিলে গরম লাগে। কখনো কখনো গ্রন্থিগুলো পেকে ফেটে যায়  এবং ঘা ও সাইনাস ফরম করে যা সহজে শুকায় না।

কিডনি  ও মুত্রনালীর টিবিঃ যক্ষা জীবানু ফুসফুসে প্রবেশের কিছু জীবানু রক্তের মাধ্যমে কিডনি ও মুত্রনালীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং সে ক্ষেত্রে জীবানু প্রবেশের ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কিডনি ও মূত্রনালীতে এই রোগ হতে পারে। কিডনি ও মূত্রনালীতে যক্ষা হলে বার বার প্রস্রাবের চাপ হয় এবং ব্যথা হয়। কোন কোন সময় ব্যথাটা  পিঠের দিকে যায়। সাধারণত  এই ব্যথা তেমন বেশি অনুভূত না হলেও কখনো কখনো তা তীব্র হতে পারে।

পুরুষ  ও মেয়েদের জন্মনালীর (জেনিটাল) টিবিঃ এটা হলে মেয়েদের সন্তান ধারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়্ তলপেটে ব্যথা হয় এবং অসুস্থ বোধ করে। এটা পুরুষের হলে তারা যে কোন একটি অন্ডকোষে অস্বস্তিবোধের কথা বলে।

ফুসফূসের আবরণের (প্লুরাল) টিবিঃ সাধারণভাবে ফুসফুস যক্ষায় আক্রান্ত হলে এটা অনেক সময় ফুসফুসের আবরণীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কয়েক মাসের মধ্যে আবরণীর মাঝখানে পানি জমে। তখন রোগী বুকের নিম্নাংশে ব্যথা অনুভব করে।

মিলিয়ারি টিবিঃ কখনো কখনো যক্ষায় আক্রান্ত স্থান থেকে কোন না কোনভাবে এর জীবানু রক্তস্রোত মিশে সারা শরীর এই রোগ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়। যাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা তারাই সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হয়।

হাড় ও হাড়ের জয়েন্টের টিবিঃ কোন ব্যক্তির ফুসফুসে যক্ষার প্রাথমিক ইনফেকশনের পর এর জীবাণু রক্তের মাধ্যমে যে কোন হাড় বা হাড়ের জয়েন্টে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কারো কারো হাড় বা হাড়ের জয়েন্টে টিবি হতে পারে। ফুসফুসে যক্ষা জীবানু প্রবেশের পর সাধারণত ৩ বছরের মধ্যে এ রোগ দেখা দেয়।

খাদ্যনালী ও পেটের টিবিঃ খাদ্যনালী ও পেটের বিভিন্ন স্থানে টিবি হতে পারে যেমন পেটের আবরণ (পেরিটোনিয়াম), ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত্র, ইসফোগাস, ফেরিঞ্জ,পাকস্থলী, লিভার স্পানিল ইত্যাদি। সাধারণত শিশু এবং যুবকরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। যক্ষাক্রান্ত গরুর দুধ না ফুটিয়ে শিশুদের খেতে দিলে, ধুলোবালিতে মিশ্রিত যক্ষা জীবানু খাবারের সাথে মিলে চামচ বা হাতের আঙ্গুলের মাধ্যমে পেটের মধ্যে প্রবেশ করলে অথবা ফূসফুস থেকে যক্ষা জীবানু রক্তের মাধ্যমে পেটের আবরণের মধ্যে প্রবেশ করলে এই রোগ হতে পারে।

চামড়ায় ও যক্ষা হতে পারেঃ প্রথম চামড়া কেটে গেলে বা ক্ষত হলে বাইরে থেকে যক্ষা জীবানু সেখানে প্রবেশ করলে চামড়ায় এই রোগ হতে পারে। দ্বিতীয়ত ভেতর তেকে রক্তের মাধ্যমে ওই ক্ষতস্থানে যক্ষা জীবানু প্রবেশ করলে সেখানে এই রোগ হতে পারে। ক্ষতস্থান সাধারণ নিয়মে শুকিয়ে যায়। কিছুদিন পড়ে ওই স্থানে ঘা হয়। সাধারণত মুখমন্ডল, হাটুর নিচে এবং পায়ের পাতায় এই যক্ষায় হয়। তবে হাত বা বাহুতে খুব কম হয়।

 

ডা. একেএমডি আহসান আলী

যক্ষা ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

Posted on

যৌন অক্ষমতায় হোমিও

যৌন অক্ষমতায় হোমিও

 

এই যৌন অক্ষমতার সমস্যাটির আসল নাম পুরুষত্বহীনতা। প্রকৃত অর্থে যৌনকার্যে অক্ষমতাকে বুঝায়। এই সমস্যার সঠিক সমাধান পেতে আপনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎিসা নিয়ে জীবনকে নতুন করে সাজাতে কোনক্রমে ব্যর্থ হবেন না। চাই শুধু একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার। সঠিক ওষুধ নিবার্চনই রোগ নির্মূলের সফলতা।

রোগের কারণঃ যৌবনের শুরুতে উপায় অতিরিক্ত শুক্রক্ষয়, হস্তমৈথুন, ঘন ঘন স্বপ্নদোষ,  মাত্রাতিরিক্ত সহবাস, কোষ্ঠবদ্ধতা, অশ্ব কৃমি প্রভৃতি এই সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া অনেকে অনেক দনি যাবদ বহু নিস্তেজক পীড়াদি ভোগার পর ক্ষণিক যৌন দুর্বলতা উপস্থিত হতে পারে। যেমন তীব্র মনোবিকার, চিন্তা, ক্ষোভ, সুখ দুঃখ ইত্যাদি। উল্লেখিত অর্জিত সমস্যা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য সম্ভব। কিন্তু রোগীর মানসিক সমস্যা সমাধাণে রোগীর নিজের সচেতনতহার গুরুত্ব আবশ্যক।

যৌন অক্ষমতায় হোমিও
যৌন অক্ষমতায় হোমিও

লক্ষণঃ ১) জন্মগত যৌন দুর্বলতা ২) মানসিক বা দৈহিক কারণের জন্য যৌন দুর্বলতা। জন্মগত যৌন দুর্বলতা রোগী এদের যৌবনের আগমন বয়সে হরমোন সমস্যাটি ঠিকমত আত্মপ্রকাশ পায় না শরীরের গঠন ও এদের দেহ দুর্বল হয়। মন সরল হয় না। সব সময় হীনম্মন্যতায় ও দুর্বলাতার ভোগেন। যৌবনে ঠিক যেই সময়ে পূর্ণ যৌবন আবির্ভাব হওয়ার দরকার তা হয় না। মানসিক ও দৈহিক কারণে এই রোগের সৃষ্টি হলে। তাহা হলে বুঝতে হবে এটি কোন রোগ নয়। এই সমস্যার জন্য মানসিক ও দৈহিক কারণ দায়ী। প্রকৃতভাবে তারা যৌন সমস্যায় সুস্থ কিন্তু মানসিক সমস্যায় ও হীনম্মন্যতাজনিত কারণে ও অতিরিক্ত শুক্রাক্ষয় করে অন্তরে পাপ বোধ থাকে বলে নিজেকে রোগী বলে ভাবে। অনেক সময় যৌন হরমোন ও অন্য গ্রন্থির হরমোন সমস্যার যৌন উত্তেজনা কম থাকে তারাও মনে করে সে একজন রোগী। কিন্তু সামান্য চিকিৎসা ও স্বল্প সময়ে  এই রোগ সেরে যায়।

চিকিৎসাঃ উপযুক্ত চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি প্রয়োগে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

 

ডা. মো. ইব্রাহিম মজুমদার

নবযুগ হোমিও ক্লিনিক, (পাগলা) শাহীবাজার

ঈদগাহমাঠ, ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ।

Posted on

হাড় ব্যথার চিকিৎসা

হাড় ব্যথার চিকিৎসা

 

হাড় ব্যথা একটি উপসর্গ মাত্র। হাড় ব্যথা অন্যান্য উপসর্গের প্রতীয়মান হতে পারে। হাড়ে ব্যথা একাকী হতে পারে বা জোড়া ও পেশির সাথে হতে পারে। দীর্ঘদিন হাড় ব্যথা একজন লোককে চিন্তাগ্রস্থ  ও বিষণ্ন করে তোলে যা ব্যথা থেকে ভয়াবহ। হাড় ব্যথা মানুষের স্বাভাবিক জীবনের গুনগতমানকে সাংঘাতিকভাবে বাধাগ্রস্থ স্তর। অধিকাংশ ব্যথা হয় হাড়ের বাইরের স্নায়ু সংবেদনশীল আবরণ (পেরিওসটিয়াম) আক্রান্ত হওয়ার জন্য। পর্যাপ্ত স্নায়ু থাকে বিধায় মেরুদন্ডের হাড়ে (কশেরুকা) সবচেয়ে বেশি ব্যথা হয়। কিছু ক্ষেত্রে হাড়ের গঠন দুর্বল (যেমন, ওসটিওমালাসিয়া) ও হাড়ে অকোজো (যেমন, ওসটিওনেকরোসিস) হলে হাড়ের ভিতরের আবরণের (এনডোসটিয়াম) ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে তীব্র ব্যথার উদ্রেক হয়। বিভিন্ন রোগের কারণে বিভিন্ন হাড়ে বিভিন্ন উপসর্গ ব্যথা হয়। অসটিওআথ্রটিসে অতিরিক্ত হাড় বাইরের সংবেদনশীল আবরণকে ইরিটেশনের মাধ্যমে ব্যথার উদ্রেক করে। জোড়ার সাইনোভাইটিস নিকটবর্তী হাড়কে ব্যথায় আক্রান্ত করে। এছাড়াও জোড়ার অস্থিতিশীলতা (স্থানচ্যুতি বা স্থানচূতির প্রবণতা) এবং অভ্যন্তরীন অসামঞ্জস্যতা, (পেশি, লিগামেন্ট ও মেনিসকাস ইনজুরি) নিকটবর্তী হাড়ে ব্যথা প্রসার করে। হাড় ব্যথার সাথে শারীরিক অবসাদগ্রস্থ ও ওজন কমতে থাকলে বুঝতে হবে রোগী ক্যান্সারে আক্রান্ত। হাড়ের প্রাথমিক ক্যান্সার ছাড়াও ফুসফুস, থাইরয়েড গ্রন্থি, স্তন, বৃক্ক (কিডনি) এবং প্রোস্টেটের ক্যান্সারে হাড়ে বিস্তৃত হয়ে তীব্র ব্যথার উদ্রেক করে।

শিশুদের হাড়ে ব্যথা হলে বুঝতে হবে সম্ভবত সে রিকেটে ( ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি অভাব) ভূগছে। জ্বরসহ হাড়ে ব্যথা হলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভবনা বেশি। অসটিওপোরেসিস হলে অল্প আঘাতেই ব্যথা হয় এবং হাড় ভেঙে যায়।

অস্টিওমালসিয়ায় আক্রান্ত রোগীর হাড় নরম, বেকে যায় এবং ব্যথা হয়। অতিরিক্ত কাজ, খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ এবং হাটা ও দৌড়ানোর পর লেগের (টিবিয়া) হাড়ে স্ট্রেস জন্য ব্যথা হয়।

হাড় ব্যথার কারণঃ

১. হাড়ে আঘাত ও হাড় ভাঙা।

২. ইনফেকশন (সেপটিক ও টিবি)।

৩. সেপটিসেমিয়া।

৪. টিউমার ও ক্যান্সার  (ওসটিওসারকোমা)।

৫. ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি ও সিয়ের অভাব।

৫. বাতজ্বর  (রিউমেটিক ফিভার)।

৬. জোড়ার পেশি, লিগামেন্ট, ক্যাপসুল ( আবরণ) ও মেনিসকাস ইনজুরি।

৭. রিউমাটয়েড, গাউটি, অসটিও, ইনফেকটিভ এবং প্রদাহ আথ্রাইটিস।

৮. রক্তশুণ্যতা (সিকল সেল এনিমিয়া) এবং ব্লাড ক্যান্সার (লিউকেমিয়া)

১০. হাইপারপ্যারাথাইরোডিজম ও হাইপারক্যালসিমিয়া।

১১. পেজেন্টস ডিজিস।

১২. মাল্টিপোলামায়েলোমা।

১৩. নিউরোব্লাস্টোমা।

১৪. লেপ্টোস্পাইরোসিস ও এস্পারজিলোসিস।

১৫. ধুমপান ও মদপান ।

চিকিৎসাঃ

চিকিৎসার শুরুতে ব্যথা সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পারে যে, কোন হাড়ে ব্যথাও উৎপত্তি- বাহু, নিম্নবাহু হাত, মেরুদন্ড, লেগ বা গোড়ালির হাড়। আরও জানতে হবে প্রথম কখন ব্যথা শুরু হয়। কতদিন ধরে ব্যথা ? ব্যথা কি বেড়ে যাচ্ছে ? ব্যথা ছাড়া অন্যান্য উপসর্গ কি ? সঠিক কারণ অনুসন্ধান পূর্বক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করলে হাড় ব্যথা নিরাময়ে সুফল পাওয়া যাবে। ব্যথার কারণ নির্ণয়ে শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, প্রশাস পরীক্ষা, অস্থিমজ্জা পরী ক্ষা, এক্স রে, বি এম ডি, বোন স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই করতে হবে। কায়িক পরিশ্রম করলে হাড় মজুবত ও শক্তিশালী হয়। ফলে হাড়ে ব্যথা কম হয়। উপযুক্ত ব্যায়াম যেমন নিয়মিত হাটা, জঙ্গি, সিড়ি দিয়ে উঠা নামা করা এবং ওজন বাহন করা হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করে। কিশোর কায়িক পরিশ্রম করলে হাড়ের পরিমান বেড়ে যায় এবং হাড় মাটা, মজবুত ও শক্তিশালী হয়। ফলে বৃদ্ধ বয়সে হাড় ব্যথা ও ভাঙা কম হয়। সুষম খাদ্য এবং কিশোর বয়সে ১৩০০ মিলি গ্রাম, ৫০ বছর পর্যন্ত ১০০০ মিলি গ্রাম এবং ৫০ বছরের উর্দ্ধে ১২০০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম দৈনিক সেবন করা উচিত। ধুমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা উচিত।  পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সিওডি সেবনে হাড় ব্যথা প্রতিরোধ ও লাঘব হয়। হাড়ের বিভিন্ন উপাদানের ক্ষয় পুরনের জন্য পরিমিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ও বিসফোসাফোনেট (এলেনড্রোনেট, ইটিড্রোনেট ও রাইসোড্রোনেট) সেবন, হোরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি এবং রেলোক্সিফেন ও ক্যালসিটোনিন ইনজেকশন পুশের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যথার ওষুধ ছাড়াও প্রাথমিক কারণের জন্য কোমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং অন্যান্য ওষুধগ্রহণ করতে হবে।

 

ডাঃ জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন

হাড়, জোড়া ও ট্রাম বিশেষজ্ঞ এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জণ

ডিজি ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেস, মিরপুর-১০, ঢাকা।