Posted on

মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস

মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস

লাইকেন প্ল্যানাস এক ধরনের চর্মরোগ যা সাধারণত ওরাল মিউকোসাতে দেখা যায়। মোট জনসংখ্যার শতকরা ২ ভাগ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। সাধরণত যাদের বয়স ৪০ বৎসরের চেয়ে বেশি তাদের দেখা যায়। এর কারণ এখনও জানা যায়নি।  এ রোগ সাধারণত ক্যান্সারের দিকে রূপান্ততি হয় না। আনুমানিক শতকরা ১ ভাগ ক্ষেত্রে ১০ বছর পর ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হতে পারে। চামড়ায় হলে শতকরা ৭০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে মুখের সমস্যা দেখা যায় আর অন্যদিকে ওরাল লাইকেন প্ল্যানাসের রোগীদের মাত্র শতকরা ১০ ভাগের ক্ষেত্রে চর্মে সমস্যা দেখা যায়।

মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস
মুখের রোগ লাইকেন প্ল্যানাস

কোথায় হয়ঃ মুখে লাইকেন প্ল্যানাসের আক্রান্ত স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল বাক্কাল মিউকোসার পিছনের অংশ। কিন্তু এছাড়া জিহ্বা, মাড়ি এবং অন্যান্য স্থানও আক্রান্ত হতে পারে। আর অন্য দিকে চর্মে লাইকেন প্ল্যানাস সাধারণত দুই হাতের কিজি এবং পায়ের হাটুর নিচের সম্মুখ ভাগের হাড় টিবিয়ার শিনের উপরি ভাগের ত্বকে লাইকেন প্ল্যানাস চর্মরোগ দেখা যায়।

আক্রান্ত স্থানঃ এ রোগ সাধারণত শরীরের উভয় দিকে হয়ে থাকে। আক্রান্ত স্থানে বেগুনি বা কালচে রংয়ের দাগ দেকা যায়। আর মুখের লাইকেন প্ল্যানাসের ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থান ক্রিসক্রস ধরনের হয়ে থাকে। আবার বাক্কাল মিউকোসাতে সাদা সাদা দাগ দেখা যেতে পারে।

রোগের কারণঃ লাইকেন প্ল্যানাস রোগে ইমমিউনো প্যাথোজেনেসিসের প্রমাণ রয়েছে যদিও দায়ী এন্টিজেন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ইমমিউনো প্যাথোজেনেসিস বলতে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ব্যবস্থা ব্যাহত হয় বুঝায়। লাইকেন প্ল্যানাস অথবা লাইকেন প্ল্যানাসের মতো দেখতে সংক্রমণের যোগসূত্র থাকতে পারে যেসব ক্ষেত্রে সেগুলো হলোঃ

১) অ্যামালগাম ডেন্টাল ফিলিং

২) ওষুধজনিত কারণ বিশেষ করে এনএসএআইডি গোত্রভুক্ত ব্যথানাশক ওষুধ।

৩) স্বর্ণ নির্মিত কোন ডেন্টাল এপ্লায়েন্স।

৪) ম্যালেরিয়া রোধকারী ওষুধ।

৫) মিথাইল ডোপাজাতীয় ওষুধ।

৬) অটোইমমিউন ডিসঅর্ডার।

৭) ক্যান্সারের ক্ষেত্রে।

৮) এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত হলে।

যেসব রোগে লাইকেন প্ল্যানাসের যোগসূত্র কম সেগুলো হলঃ

১) দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের রোগ।

২) হেপাটাইটিস সি ভাইস সংক্রমণ।

অনুভূতি এবং রোগের ধর্মঃ

লাইকেন প্ল্যানাস রোগে আক্রান্ত স্থানে খুব বেশি চুলকায়। তবে আক্রান্ত স্থান শুধু দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া  ঠিক নয়। লাইকেন প্ল্যানাস রোগ নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই বায়োপসি তকরা প্রয়োজন। তবে অবস্থা বিশেষে রোগের লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে। লাইকেন প্ল্যানাস সাধারণত মাসের পর মাস এমনকি দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। আবার একবার ভাল হলে পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লাইকেন প্ল্যানাসের চিকিৎসাঃ

আক্রান্ত স্থানের উপরি ভাগে স্থানীয়ভাবে কটিকোস্টেরোয়েড মলম যেমন হাইড্রোর্কটিসন হেমিসাকসিনেট, বেটামেথাসন প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে অতিমাত্রায় সংক্রমণের ক্ষেত্রে এন্টিফাংগাল ওষুধ সেবন করতে হবে। আর মুখের লাইকেন প্লানাসের ক্ষেত্রে কেনালগ ইন ওরোবেস নামক ওষুধটি স্থানীয়ভাবে প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া যায়। চুলকানির জন্য এন্টি হিস্টাসিন জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হবে। এক্ষেত্রে লোরাটিডিন বা ডেসলোরাটিডিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। তবে লাইকেন প্ল্যানাস রোগটি যদি বেশি অগ্রসরমান অবস্থায় থাকে তাহলে ২০ মি.গ্রা প্রেডনিসোলন প্রতিদিন গ্রহণ করে ৪ থেকে ৬ মাসে ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে হবে। তাছাড়া সাথে ট্যাবলেট মাইসোফুলডিন চার ভাগের এক ভাগ প্রতিদিন সেবন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। কত দিন কোন ওষুধ চলবে তা আপনার চিকিৎসকিই নির্ধারণ করবেন। তবে যাদের হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন

ওরাল  এন্ড  ডেন্টাল সার্জন মাহী ডেন্টাল কেয়ার

বউবাজার, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

Please follow and like us:
error
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *