Posted on

মাংস কম খান

মাংস কম খান

 

এক প্রান্তের মানুষ যখন জলবায়ুর পরিবর্তনের  কবলে প্রাণ হারাচ্ছে, ঠিক তখন অপর প্রান্তের মানুষ বিলাসিতার ছলে বায়ুমন্ডলে ছড়িয়ে দিচ্ছে টন টন কার্বন ডাই অক্সাইড। তাই বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার পর প্রকাশ করলেন এক চমৎকার দাওয়াই। বিজ্ঞানীদের এই দাওয়াই মেনে চললে একদিকে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে,  জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো তথা পরিবেশ বিপযর্যের মাত্রা হ্রাসেও সহায়ক হবে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করলেন ৯০ পৃষ্টার এক গবেষণালব্ধ পুস্তক। নাম এ মিট ইটার্স গাইড টু ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ’। এতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে খাবার তালিকায় ছোট্র পরিবর্তন আনলেই তা পরিবেশ রক্ষায় বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু গ্যাস এবং তেল জাতীয় জ্বালানির দহনই এককভাবে দায়ী নয়। বরং এর পেছনে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে প্রাণীর ঢেকুর মিথেন গ্যাসের নির্গমন থেকে নানা প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের জীবনচক্রও। যেগুলো আবার বিশ্বমানের খাবার টেবিলেও নিয়মিত হাজির থাকে।

মাংস কম খান
মাংস কম খান

ওয়াশিংটনে কর্মরত এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ ‘ইডব্লিউজি’র উর্দ্ধতন বিশ্লেষক ক্যারি হ্যামারশ্ল্যাগ বললেন,  আমাদের গবেষণায় আমরা গ্রিণ হাউস নির্গমনের বিবেচনায় প্রতিটি খাবারের জন্ম থেকে বিনাশ অবধি কার্বন চক্র বিশ্লেষণ করেছি।  এমনকি সেগুলো খামারে থাকা অবস্থায় এবং তারপরের ধাপগুলোও বিবেচনা করা হয়েছে। ইউব্লিউজি যৌথভাবে ওরেগনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রিনমেট্রিক্স কর্পোরেশন পোর্টল্যান্ডের সাথে এই গবেষণার কাজ করেছে। এর আওতায় প্রাণীকুলের জন্য ব্যবহৃত খাবার,  সেগুলোকে প্রয়োগ করা পোকানিধন বিষ, সার, পশুপালন, বিভিন্ন খাবার প্রক্রিয়াজাতকারণ,  পরিবহন এবং রান্নার বিভিন্ন ধাপগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এমনকি খাবার পর অবশিষ্টাংশ থেকে নির্গত গ্যাস ও সেগুলোর ব্যবস্থাপনার ধাপগুলোও যথাযথভাবে হিসাবে আনা হয়েছে।  শুধূ তাই নয়,  খামারে চাষ করা মাছ শস্য দুগ্ধজাত খাবার এবং শাক সবজির উৎপাদন চক্রকেও আনা হয়েছে   এই গবেষণার মধ্যে। বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে সপ্তাহে একবার একফালি মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলছেন। কারণ, মাংসই হচ্ছে মানুষের খাবারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী। আবার,  এগুলোর মধ্যে ভেড়ার মাংস থেকে নির্গত হয় সবচেয়ে বেশি কার্বন। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, এক কিলো ভেড়ার মাংস খেলে কার্বন নির্গমন হয় প্রায় ৪০ কেজি। বিষয়টিকে আরও একটু সহজ করে বলতে গেলে, ১১০ গ্রাম ওজনের একফালি ভেড়ার মাংস খাওয়া আর একটি মাঝারি গাড়ি আরও একটু সহজ করে বলতে গেলে,  ১১০ গ্রাম ওজনের  একফালি ভেড়ার মাংস খাওয়া আর একটি মাঝারি গাড়ি ২১ কিলোমিটার চালানোর ফলে কার্বন নির্গমনের পরিমাণ সমান। তাই হ্যামারশ্ল্যাগের পরামর্শ, চারজন সদস্যের  একটি পরিবার যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকে তাহলে প্রায় তিন মাস গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার সমান কার্বন নির্গমন ঠেকাতে পারে। বৈজ্ঞানিক হিসাবে,  বিশ্বের সব উন্নত দেশের বাসিন্দাদের তুলনায় মার্কিনদের সবচেয়ে বেশি মাংস খায়। আর এই পরিমাণ হলো বছরে মাথাপিছু ১১০ কেজি। তাই পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি হৃদরোগ,  ডায়াবেটিস এবং স্থুলতা থেকে বাচতে মানুষকে মাংস খাওয়ার হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট

Please follow and like us:
error
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *