Posted on

ব্রয়লার মুরগি তে কোলেস্টেরল কম

ব্রয়লার মুরগি তে কোলেস্টেরল কম

পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই যেখানে ব্রয়লার মুরগি এর জনপ্রিয়তা নেই। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান শ্রীলংকা ইত্যাদি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ব্রয়লার এখন বেকার দূরীকরনের অন্যতম উপায়। শিক্ষিত লোকরো যুবকরা তাই যত্রতত্র খুছেন ফার্ম, তা স্বত্তেও চাহিদা অনুযায়ী জোগান নেই কোনো প্রান্তেই। গবেষণার জানা যায়, একজন ব্যাক্তির শরীরে প্রোটিন চাহিদা পূরণের জন্য বছরে প্রায় ১১ কেজি ব্রয়লার বা অন্য কোনও পোষ্য পশু পাখির গোশত খাওয়া জরুরি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো গরীব দেশে তা কি সম্ভব ? এ দেশে মানুষ বছরে গড়ে খায় ৭৫০-৮০০ গ্রাম পশু পাশির গোশত। মজার ব্যাপার হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ব্রিটেন, জার্মানি, জাপান, ফ্রান্স, সুইডেনসহ উন্নত দেশগুলোতে বছরে গড়ে এক ব্যাক্তি খান ৩৮ কেজি পশু পাখির গোশত।

এখন জানা জরুরী ব্রয়লার কী? ব্রয়লার এমন এক সংকর প্রজাতির মুরগী যার বৃদ্ধি প্রায় অবিশ্বাস্য। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণে থাকলে একটি ব্রয়লার জন্ম থেকে মাত্র ৬ সপ্তাহের মধ্যেই ২ কেজি ওজনের হতে পারে। বিশ্বজুড়েই ছাগল ভেড়া উট গরু ইত্যাদি পশুর সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান; ফলে এগুলোর গোশতের নামও গগনচুম্বি। এ কারণেই প্রাণিজ প্র্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে ব্রয়লার ইতোমধ্যেই স্বীকৃত। কেননা এর হাড়বৃদ্ধি বেশি, দামও কম। বাংলাদেশে ব্রয়লার পালন শিল্প বছরে ২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসাধারণের মধ্যে একটা মত আছে, ব্রয়লারের পুষ্টিগুন কম; তা কোমল নিম্নগুণ বিশিষ্ট গোশত। এই মত অবৈধ ভুল। সংশ্লিষ্ট তালিকার দিকে তাকালেই বেঝা যাবে ব্রয়লারের গোশত অন্য কোনও গোশতের চেয়ে কম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন নয়। এবার ব্রয়লারের গুণগুলো দেখা যাকঃ অন্য যে কোনও গোশতের চেয়ে ব্রয়লার গোশতে চর্বি কম। ফলে একে অনায়াসেই কম ক্যালোরিসম্পন্ন খাদ্য তালিকার অর্ন্তভূক্ত করা যায়। অবশ্য একটা কথা উল্লেখযো্গ্য যে, ব্রয়লারের বয়স বৃদ্ধি হলে শরীরে চর্বি জমা হতে পারে। তবে ব্রয়লার সে বয়সে পৌছানোর সুযোগই পায়  না।

ব্রয়লার গোশত মাঝেমধ্যে রান্না করা ভালো। ব্রয়লার গোশতে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও নিয়াসিন অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। খনিজ পদার্থ, যেমন পটাশিয়াম, সোডিয়াম আয়রণ, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার , ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম ও আয়োডিন পাওয়া যায় ব্রয়লারে। মাত্র ৬ সপ্তাহ বয়সী ব্রয়লারেই এইসব খনিজ পদার্থ পূর্ণমাত্রায় থাকে; যা স্থানীয় মুরগী বা অন্য গোশতে পাওয়া যায় না। ব্রয়লারে চর্বিতে যে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে তা অ্যানস্যুাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে এই চর্বি হৃৎপিন্ড বা উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগ তৈরি করে না বা বাড়ায় না। অন্য গোশতে বিশেষত তৃণভোজি প্রাণির গোশতে চর্বিতে খারাপ অ্যাসিড বেশি থাকে, তাই সেগুলো মানব শরীরের পক্ষে হানিকারক।

  • ব্রয়লারের মাংসের আশ খুব নরম ও চামড়া পাতলা থাকায় তা সহজেই হজম হয়। ফল বেশি বেশি পুষ্টিকর উপাদান ব্রয়লারেই পাওয়া সম্ভব। কম বয়সী, বৃদ্ধ সকলেই ব্রয়লার খেয়ে হজম করতে পারে। দেশী মুরগীর গোশতের আঁশ শক্ত বলে তা হজম করাও অনেকের জন্য কঠিন।
  • ব্রয়লারের গোশতেই কোলেস্টেরল সবচেয়ে কম, তাই হৃদরোগীরাও এই গোশত খেতে পারে।

 

আফতাব চৌধুরি

সাংবাদিক কলামিষ্ট

Please follow and like us:
error
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *